নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে সিন্ডিকেটের মনোনয়নে এক রকম নিশ্চিত নানা ভাবে বিতর্কিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ গ্রণ্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম বার্ষিক সম্মেলন। প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ সভাপতি আরিফুর রহমান লিমন জানান, শনিবার সকাল ১০ টায় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসে সমঝোতার মাধ্যমে পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।
আর শনিবারই একসঙ্গে কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আস্থাভাজন উপ সম্পাদক ইনান এর জন্য ছাত্রলীগের সিন্ডিকেটের কয়েকজন নেতা সক্রিয় ভাবে কাজ করছেন। আমির হোসেন আমু ছাত্রলীগে তার হারানো প্রভাব ফিরিয়ে আনার জন্য ইনানকে পদে আনতে খুব জোরালো ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ইনানের বিরুদ্ধে বিজয় একাত্তর হলের সভাপতি থাকাকালীন হল ক্যান্টিনে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে সে ক্যান্টিন মালিকের নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে নিত। এছাড়া ক্যান্টিন মালিক আনোয়ারকে এককালীন ২লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। টাকা না দিলে হলে ক্যান্টিন চালাতে দিবে না বলে ভয় দেখায়। পরবর্তীতে আনোয়ার তার ভয়ে ১লক্ষ টাকা চাঁদা দেয়।
এছাড়া হলে কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ইনান সভাপতি থাকাকালীন বিভিন্ন সময় হল প্রাধক্ষ এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া কে তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে বাধ্য করে। আর নিয়োগ প্রাপ্ত প্রতি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় প্রায় ৫ থেকে ৮ লক্ষ টাকা করে।
এছাড়া পদ পাওয়া পর থেকেই ইনান বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় জড়িয়ে পরে। বরিশাল গার্লস স্কুলের পাশে সাব টাইম নামে তার রেষ্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়া ঢাকায়ও বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ইনান ২০১১-১২ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ৭ বছরে এখনও অনার্সই সম্পন্ন করতে পারেন নি।
এ প্রসঙ্গে অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বলছেন ছাত্রলীগ মেধাবীদের সংগঠন। আর যারা নেতৃত্বে আসবে তাদেরকে কর্মীরা আইডল ও মেধাবী হিসেবে মানে। কিন্তু বিভিন্ন বর্ষে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া একজন ছাত্রকে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা এখন সর্বত্র।
অনেকেই বলছেন যে নিজেই ৭ বছরে স্নাতক পাশ করতে পারেনি, সে কিভাবে ছাত্র সমাজকে শিক্ষা ও মেধার পথ দেখাবে।
প্রসঙ্গত, কোন ভাবেই যাতে অনুপ্রবেশকারী ও অপরাধীরা নেতৃত্বে না আসতে পারে এ লক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীদের অতীত কার্যকলাপ ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডও খোঁজা হচ্ছে। আমলে নেয়া হবে গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানও।
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ধারা ৫ এর (গ) উপধারায় বলা আছে- ‘বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও চাকরিতে নিয়োজিত কোনো ছাত্র ও ছাত্রী ছাত্রলীগের কর্মকর্তা হতে পারবে না। চলতি কার্যকালের মধ্যে কারও ছাত্রজীবনে ব্যত্যয় দেখা দিলে নির্বাহী সংসদ তার সদস্যপদ বাতিল বা মেয়াদ পর্যন্ত বহাল রাখতে পারবে।’


